রসই- ঘর

রান্নাকরার অসাধারন সব মজার রেসিপি 

 

সুস্বাদু পাও ভাজি

সুস্বাদু পাও ভাজি
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় খাবারের নাম পাও ভাজি। স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বদৌলতে আমরা নিশ্চই এর নামের সাথে পরিচিত। অনেকে হয়তো বিভিন্ন ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ইতোমধ্যে নিয়েছেন এর স্বাদ। আসলে পাও বা ঘিয়ে ভাজা বন রুটির সাথে বিশেষ ধরণের সবজি দিয়ে তৈরী করা হয় পাও ভাজি। সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সম্পন্ন পাও ভাজি আপনার পরিবারে সবাই সকাল বা বিকালের নাস্তা হিসাবে খুবই পছন্দ করবে নি:সন্দেহে। তবে এই খাবরটিকে সুস্বাদু করেছে এতে হরেক মসলার ব্যবহার। কিন্তু স্বাদের জন্য মসলা তো লাগবেই। তাই আসুন ঘরেই চেষ্টা করি পাও ভাজি বানাতে।
যা যা লাগবে:
পাও (বন রুটি) ৪ পিস আলু সেদ্ধ আধা কেজি
মটরশুটি বাটা ১ কাপ
ঘি ১৫০ গ্রাম
আদা বাটা ২ চা চামচ
রসুন বাটা ২ চা চামচ
টমেটো ছোট টুকরো ১ কাপ
ধনিয়া পাতা ১ কাপ
কাঁচা মরিচ ২-৩ টা
মরিচের গুড়া ১ চা চামচ
লেবুর রস ১ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ ১ টি (কুচি করা)
লবন স্বাদ মতো
পাও ভাজি মসলা (নিচে দেখুন)
পাও ভাজি মসলা:
২ চা চামচ ধনিয়া বাটা
১ চা চামচ জিরা বাটা
আধা কাপ তেতুল গোলা পানি
কাঁচা আম পেস্ট করা ২ চা চামচ
২ টা লং
এক টুকরো দারুচিনি
২টা এলাচ
যেভাবে করবেন:
আলু সেদ্ধ করে পেস্ট করে নিন। এবার একটা কড়াই গরম করে কাঁচা মরিচ, আদা বাটা, রসুন বাটা দিন। ১০০ গ্রাম ঘি দিয়ে ভাজতে থাকুন। যখন লালচে রং হয়ে আসবে তখন পেঁয়াজ কুচি যোগ করুন।
এবার টমেটো, মরিচের গুড়া এবং পাও ভাজি মসলা মিশিয়ে নাড়তে থাকুন।
সেদ্ধ আলুর পেস্ট, মটরশুটি পেস্ট, আধা কাপ পানি এবং ২ টেবিল চামচ ঘি দিয়ে নাড়তে থাকুন।
স্বাদ মতো লবণ যোগ করুন।
যখন রান্না হয়ে আসবে তখন লেবুর রস এবং ধনিয়া পাতা দিয়ে নামিয়ে ফেলুন।
কড়াইতে পাও গুলো(বনরুটি) একটু ঘি দিয়ে ভেজে নিন।

ব্যাস হয়ে গেল সুস্বাদু মজাদার পাও ভাজি। সালাদ দিয়ে সাজিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।


মজাদার কাসুন্দি ঘরেই তৈরি করুন

মজাদার কাসুন্দি ঘরেই তৈরি করুন

টক ফলের সাথে একটু লবণ মরিচের গুড়া আর একটু খানি কাসুন্দি না হলে যেন চলেই না। অল্প একটু কাসুন্দিই যে কোনো টক ফলের স্বাদ বাড়িয়ে তোলে বহুগুণে। খুব সহজে ঘরেই তৈরি করা যায় একেবারে দোকানের মতো স্বাদের কাসুন্দি। জেনে নিন সহজ রেসিপিটি।
উপকরণঃ
সরিষা দানা ২৫০ গ্রাম
শুকনা মরিচ ১টি
ধনে গুড়ো ১চা চামচ
গোল মরিচ ১চা চামচ
জিরা গুড়ো ১ চা চামচ
হলুদ ২/৩ চা চামচ
যোয়ান ১চা চামচ
তেজপাতা ১ টি
মৌরী ১ চা চামচ
রাধুনী ১ চা চামচ
লবণ ১ চা চামচ
দারচিনি গুড়া ১/২ চা চামচ
প্রস্তুত প্রণালিঃ
কাসুন্দি তৈরি করার জন্য সরিষার কেনার সময়ে খেয়াল করে কিনুন যেন তিতা না পড়ে। এক্ষেত্রে কয়েকটি দানা মুখে দিয়ে পরীক্ষা করে নিতে পারেন।
প্রথমে সরিষা চালনি দিয়ে চেলে পরিষ্কার করে নিন। তারপর একদিন কড়া রোদে দিয়ে ঝরঝরে করে শুকিয়ে নিন।
এরপর সরিষা এবং অন্য সব মশলা একসঙ্গে কড়াইয়ে ভেজে নিন।
পাটায় মিহি করে বেটে নিন অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিন।
পানি মিশিয়ে ঘনত্ব কিছুটা কমিয়ে নিন। ব্যস হয়ে গেলো কাসুন্দি।
টক ফলের সাথে পরিবেশন করুন মজাদার ঘরে তৈরি কাসুন্দি।

 

 

গরুর ভুঁড়ি রান্না করার একটি ভিন্নধর্মী রেসিপি

গরুর ভুঁড়ি রান্না করার একটি ভিন্নধর্মী রেসিপি


আজ জেনে নিই সাদিয়া খান চৌধুরীর একটি ভিন্নরকম রেসিপি “চুই ঝালে ভুঁড়ি ভুনা”। 
উপকরণঃ 
ভুঁড়ি – ৫ কেজি ( সাড়ে তিন কেজি ভুঁড়ি ও দেড় কেজি ফ্যাপসা )
পেঁয়াজ মোটা করে কাটা – ২ কাপ
রসুনবাটা – ৩ টেবল চামচ
আদাবাটা – ২ টেবল চামচ
ধনে- জিরা বাটা – ৩ টেবল চামচ
তেল – ২৫০ মিলিলিটার বোতলের তিন বোতল
লবণ – ৫ চা চামচ বা স্বাদমতো
হলুদ – ৫ চা চামচ
এলাচ – ২৫ টি
লবঙ্গ – ২৫ টি
দারচিনি – ২০ টি
গোলমরিচ – দুই মুঠ
শুকনো মরিচ চেরা – দেড় কাপ বা চাহিদা অনুযায়ী
তেজপাতা – ৫ – ৬ টি
পানি – দুই কাপ
নারকেল কুড়ানো – ১ টি
প্রণালীঃ
-ভুঁড়ির চর্বি ফেলে দিয়ে গরম পানি দিয়ে ভুঁড়ি পরিষ্কার করে ছোট টুকরা করে ( বেশি ছোট করবেননা, রান্নার পর আরও ছোট হয়ে যায় ) আবারও গরম পানি দিয়ে ডলে ডলে ধুতে হবে।
-একমুঠো গোলমরিচ উঠিয়ে রেখে বাকি গোলমরিচ ও গরম মশলা শুকনো তাওয়ায় টেলে গুঁড়ো করতে হবে।
-এবার একটি কড়াই বা হাঁড়িতে ভুঁড়ি দিয়ে সব কাটা ও বাটা মশলা, তেজপাতা ও একমুঠো গোলমরিচ দিয়ে ভালভাবে মাখিয়ে এক ঘণ্টা রেখে দিতে হবে।
-এবার চুলায় মাঝারি আঁচে জ্বাল দিতে হবে। ভুঁড়ির পানি বেরিয়ে একটু কষে আসলে পানি গরম করে দিতে হবে।
-গরম মশলার গুঁড়ো ভুঁড়ির ওপর ছিটিয়ে দিতে হবে।
-এভাবে দুই দিন ধরে কষাতে হবে। পনি শুকিয়ে আসলে প্রয়োজন অনুযায়ী গরম পানি দিতে হবে.
-তৃতীয় দিন নারকেল থেকে তিন বার পানি দিয়ে দুধ বের করে এর সবটুকু ভুঁড়িতে দিয়ে দিয়ে জ্বাল দিয়ে কষিয়ে তেলের ওপর উঠলে নামাতে হবে।

“পারফেক্ট” তেহারি রান্না করার খুব সহজ

  

“পারফেক্ট” তেহারি রান্না করার খুব সহজ



জিভে জল আনা অত্যন্ত লোভনীয় চেহারার তেহারিটা দেখেই কি পারফেক্ট মনে হচ্ছে না? একেকজন একেকভাবে তেহারি রান্না করেন। তবে হ্যাঁ, অনেকেরই তেহারিতে পারফেক্ট স্বাদটা আসে না। অনেকে আবার অনুসরণ করেন খুবই জটিল রেসিপি। চলুন, আজ জেনে নি আপনার মনের মত পারফেক্ট স্বাদের তেহারি রান্না করার একটি দারুণ সহজ রেসিপি। একদম নতুন রাঁধুনিদেরও এই রেসিপি দেখে রাঁধলে খাবারটি হবে দারুণ সুস্বাদু।

উপকরণ:

গরুর মাংস ১ কেজি,
দই (টক+মিস্টি বা যে কোনো টা) ৫ টে চামচ,
পেঁয়াজ কুচি দেড় কাপ,
আদা বাটা ৩ টেবিল চামচ,
রসুন বাটা ৩ টেবিল চামচ,
পেঁয়াজ বাটা ১ কাপ,
কাঁচা মরিচ বাটা ১ টে চামচ,
সরিষা বাটা ১ টে চামচ,
কাঁচা পেঁপে বাটা ১ টে চামচ,
মরিচ গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ,
ধনে গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ,
জিরা গুঁড়ো ১ টেবিল চামচ,
কালো গোলমরিচ গুঁড়ো আধা চা চামচ,
তেজপাতা ২টি,
দারচিনি ২ সেমি ৫ টুকরো,
এলাচ ৫টি,
লবঙ্গ ৪টি,
কাঁচামরিচ ১৫ টি মাঝে চিরে নেয়া,
সরিষার তেল ১ কাপ,
সয়াবিন তেল হাফ কাপ,
পোলাওয়ের চাল ১ কেজি,
আলু চৌকো করে কাটা ও ভেজে নেয়া (২ কাপ),
লবণ ১ চা চামচ মাংসের জন্য + ১ চা চামচ পোলাও এর জন্য
গরম পানি ১০ কাপ

প্রণালী:

  • -মাংস ছোট টুকরো করে ধুয়ে নিন। ২ টে চামচ করে আদা-রসুন বাটা সহ সমস্ত বাটা ও গুঁড়ো মসলা অর্ধেকটা সরিষার তেল, পুরোটা সয়াবিন তেল এবং দই, লবণ দিয়ে মাংস মাখিয়ে রাখুন। খুব ভালো হয় মাখিয়ে সারা রাত ফ্রিজে রেখে দিতে পারলে।
  • -একটা বড় হাঁড়িতে তেল গরম করে অর্ধেকটা করে পেঁয়াজ তেজপাতা ও গরম মসলা সামান্য ভেজে মাংস, লবণ দিন। মাংস কষিয়ে ভুনা করুন।
  • -মাংস কষানো হলে অর্ধেকটা গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন যেন মাংস সিদ্ধ হওয়ার পরও বেশ খানিকটা ঝোল থাকে। ঝোল টেনে এলে বাকি অধের্কটা পানি দিন। এ সময় অল্প তেলে আলু ভেজে সেটাও রেডি রাখুন।
  • -মাংস সিদ্ধ হয়ে এলে আলু ও ঝোলে দিয়ে দিন এবং মোটামুটি সিদ্ধ করে নিন।
  • -এবার পোলাও এর জন্য প্যানে বাকি সরিষার তেল এ পেঁয়াজ কুচি ও বাকি আদা রসুন বাটা ও গরম মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন।চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে মসলায় দিন। ২-৩ মিনিট ভাজুন।
  • -গন্ধ ছড়ালে রান্না করা মাংস ঝোল সহ চালের ওপর ঢেলে মিশিয়ে দিন। ঝোলের পানিতেই পোলাও রান্না হয়ে যাবে। লবণ দিন। চাল ফুটে গেলে নিচে তাওয়া দিয়ে দমে দিয়ে দিন এবং ওপরে কাঁচামরিচ দিয়ে ঢেকে মৃদু আঁচে ২০ মিনিট রাখুন। চুলা থেকে নামিয়ে রাখুন। ২০-২৫ মিনিট পর ঢাকনা খুলবেন।
  • -সালাদ দিয়ে পরিবেশন করুন।

#রান্না-বান্নায় অপরিচিত মশলা পরিচিতি






রান্নার একটা গুরুত্বপূর্ন দিক হচ্ছে মশলা। মশলার কারণেই এক এক রান্না এক এক রকমের স্বাদ ও ঘ্রাণের হয়ে থাকে। কাজেই যারা রান্নায় বিশেষ পারদর্শীতা অর্জন করতে চাইবেন তাদের জন্য মশলা চেনা এবং তার সুষ্ঠু ব্যবহার করা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক।

চায়না গ্রাস

চায়না গ্রাস রান্নার একটা উপকরণ যা স্বচ্ছ নুডলসের মতো দেখতে। চায়না গ্রাস সাধারণত হালুয়া,পুডিং,ফালুদা,আইস-ক্রিম ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হয় তবে এখন দিন দিন এর ব্যবহার আরও বাড়ছে। এটি যেকোনো মুদি দোকান বা যেকোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কিনতে পাওয়া যায়।

অ্যারারুট

এটি খাবার মচমচা করতে ব্যাবহার করা হয় । খাবার ভাল মচমচা করতে চাইলে অ্যারারুট ময়দার মিশ্রনের সাথে মিক্স করে নিতে হয় এবং রুটি বেলার সময় ব্যাবহার করতে হয় । অ্যারারুট মুদি দোকানে খুচরা কেনা যায়। এছাড়া কিছু কিছু সুপার শপেও পাওয়া যায়। অনেকটা কর্নফ্লাওয়ার এর মতই দেখতে। এর পরিবর্তে কর্ন ফ্লাওয়ার ও ব্যাবহার করা যেতে পারে ।

তালমাখনা

তালমাখনা ছোট ছোট একধরনের বিজ। ফুসকাতে তালমাখনা ব্যাবহার করলে ফুসকা ভাল ফুলে এবং মচমচে হয়। এছাড়া তাল মাখনা শরীর ঠাণ্ডা করার জন্য শরবত হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন মেডিসিন তৈরিতেও তাল মাখান ব্যাবহার হয়।
তালমাখনা সাধারণত মুদিদোকান গুলোতে পাওয়া যায় । সুপার শপে পাওয়ার সম্ভাবনা কম।

কর্নস্টার্চ

ভুট্টা থেকে তৈরি ধবধবে সাদা পিচ্ছিল ময়দা। চাইনিজ এবং পশ্চিমা রান্নায়, স্যুপ ও কাস্টার্ড তৈরিতে এগুলো ব্যবহার করা হয়। এসবের পরিবর্তে অবশ্য ময়দা কিংবা অ্যারারুটও ব্যবহার করা যায়।

বেকিং সোডা

সোডিয়াম বাই কার্বনেট (খাবার সোডা) রান্না করার সময় কোনো কিছু তাড়াতাড়ি সিদ্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া কোনো কোনো খাদ্যসমগ্রী ফোলানো কিংবা ফাঁপানোর জন্যও এটি ব্যবহার করা হয়।

বেকিং পাউডার

বেকিং পাউডার এর মধ্যে সোডিয়াম কার্বনেট সহ অ্যাসিড জাতীয় এজেন্ট থাকে যার কাজ অনেকটা বেকিং সোডার মতই। কিন্তু বেকিং পাউডার, বেকিং সোডার তিন গুন ব্যবহার করতে হয়; কারণ কক্ষ তাপমাত্রায় ইহা কার্বন-ডাই-অক্সিইড ত্যাগ করা শুরু করে এবং সাধ তীক্ষ্ণ করে।

সাইট্রিক এসিড

লেবুর রসের পরিবর্তে কেক, পেস্ট্রি, পুডিং এসেবের জন্য প্রয়োজন হয়। লেবুর রসের পরিবর্তে ছানা তৈরিতেও এর ব্যবহার চলে।

মেরাং

ডিমের সাদা অংশ দ্রুত ও জোরে ফেটিয়ে নিলে অথবা জমাট বাঁধালে তা মেরাংয়ে পরিণত হয়। মেরাং আলু, পুডিং, কেকের আইসিং, মেকারনি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা যায়।

ক্যারামেল

খাদ্যের কোনো কিছুর ওপর রঙ করার জন্য পানি ছাড়া চিনি অল্প গুলে সিরা করা।

ইস্ট

এক ধরনের সূক্ষ্ম ছত্রাক দ্বারা গঠিত হলুদ ফেনাময় বস্তু। যা স্টার্চ কিংবা শর্করা জাতীয় বস্তুর উপস্থিতিতে বংশ বৃদ্ধি করে বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে। পাউরুটি এবং বিভিন্নরকম রুটি, বিস্কুট, কেক ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার হয় এগুলোকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তোলার জন্য।

টেস্টিং সল্ট

এই লবণ দেখতে চিনির মতো। বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বাড়াতে এর ব্যবহার হয়ে থাকে। সচরাচর স্বাভাবিক লবণের মোট পরিমাণের অর্ধেক অংশ এই লবণের সাহায্যেই পূরণ করা যায়।

খোওয়া

খোওয়াকে আমরা মাওয়া বলে জানি। দুধ ঘন করে শুকানোর আগে অনবরত নেড়েচেড়ে শুকিয়ে কিছুটা নরম থাকতে নামিয়ে ঠান্ডা করে খোওয়া বা মাওয়াতে পরিণত হয়। বিভিন্নরকম মিষ্টির উপরে ছিটিয়ে দিয়ে মিষ্টিকে আকর্ষণীয় করার জন্য মাওয়া বা খোওয়ার ব্যবহার হয়।

ক্রাম্ব

এটি শুকনো পাউরুটি কিংবা টোস্ট বিস্কুটের গুঁড়া। চপ, কাটলেট তৈরিতে এর ব্যবহার হয়।

কাবাব নুন

কচি পেঁপের কষ দিয়ে শুকিয়ে রাখা নুন। এক কাপ নুনের সঙ্গে ১.৫ থেকে ২ চা চামচ পেঁপের কষ মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। শিক কাবাব বা মাংস বেশি সিদ্ধ করার জন্য কাবাব নুনের দরকার হয়।

সিরকা বা ভিনেগার

খাদ্য সংরক্ষণে সিরকা অপরিহার্য। যে কোনো মিষ্টি রস থেকে সিরকা বানানো সহজ। আখের রস, জামের রস, অথবা যে কোনো ফলের রস থেকে সিরকা তৈরি করা যায়। মাংস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ ও মুখরোচক করতেও সিরকার ব্যবহার হয়।

ওয়েস্টার সস

এই সসের স্বাদ টক। ওয়েস্টার সসের পরিবর্তে তেঁতুল পানি দেয়া যায়। এই সস বিফ স্টেক, হ্যামবার্গার স্টেক, ম্যান্ডারিণ ফিশ এসব রান্নায় ব্যবহার হয়।

সয়া সস

সয়া সস সয়াবিন হতে তৈরি। চাইনিজ রান্নায় এর ব্যবহার হয় বেশি।

এসেন্স

এসেন্স খাবারে সুগন্ধ আনে। ভেনিলা এসেন্স ছাড়াও লেমন, পাইন অ্যাপেল, অরেঞ্জ, বেনান, স্ত্রবেরী ইত্যাদি এসেন্স আইসক্রিম, পুডিং, কাস্টার্ড, কেক, বিস্কুট, পেস্ট্রি, জ্যাম, জেলী, মার্মালেড এবং স্কোয়াসে দেয়া হয়।

 

# বাড়তি কলা দিয়ে তৈরি করুন দারুণ একটি কেক!

 

কলা এমন একটি ফল যা কিনা একটু বেশী পেকে গেলেই খাওয়া যায় না। বাসায় অনেক কলা বাড়তি রয়ে গেলে কী করেন? বেশিরভাগ মানুষই কলার পিঠা তৈরি করেন, কিংবা মিল্কশেক। এর বাইরে অন্য কিছুর রেসিপি জানা আছে কি? জানা না থাকলে আজ দেখে নিন সায়মা সুলতানার দারুণ মজার একটি কেকের রেসিপি। কলা ছাড়াও এতে থাকবে ভ্যানিলার মিষ্টি ফ্লেভার ও নারকেলের বৈচিত্র্য। আসুন, জেনে নেই চমৎকার রেসিপিটি।

যা লাগবে

৫০ গ্রাম বাটার
২ টা ডিম
হাফ কাপ ময়দা
২ টা কলা চটকে নেয়া
হাফ কাপ কাস্টার সুগার (গুঁড়ো চিনি)
১/৩ কাপ ড্রাই কোকোনাট
১ চা চামচ বেকিং সোডা
১ চা চামচ বেকিং পাউডার
১ টেবিল চামচ ভেনিলা ফ্লেভার/ এস্সেন্স

প্রণালি-

  • -একটা বাটিতে ময়দা, কাস্টার সুগার/চিনি, বেকিং সোডা ও বেকিং পাউডার মিক্স করে নিন।
  • -আরেকটা বাটিতে পাকা কলা ডিম, ভেনিলা ফ্লেভার , বাটার ফেটিয়ে মিশিয়ে নিন। এতে ময়দার মিশ্রণটা মিশিয়ে নিন। খুব ভালো ভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। হাতে মেশালেই হবে। চাইলে ব্যবহার করতে পারেন বিটার।
  • -যেকোনো নন স্টিক বেকিং প্যানে বাটার ব্রাশ করে নিন। এবার এই মিশ্রনটা ঢেলে নিয়ে বেক করুন ওভেনে ওভেন ১৮০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় ৩০ মিনিট। ওভেন আগে প্রি হিট করে নিবেন ২০ মিনিট।
  • -হয়ে এলে কেকের উপরে ড্রাই কোকোনাট ছিটিয়ে দিন। ভ্যানিলা আইস ক্রিম-এর সাথে পরিবেশন করুন। গরম গরম কেক এর সাথে ঠান্ডা আইস ক্রিম দারুণ মজা লাগবে খেতে।

# চটজলদি বিকেলের নাস্তায় মিনি স্পিনাচ অন্থুন

 

বাচ্চারা তো শাকসবজি মোটেই খেতে চায় না, এমনকি অনেক বড় মানুষও শাকসবজি দেখলে চোখমুখ কুঁচকে ফেলেন। বিস্বাদ এই শাকসবজিকে নতুন রূপে উপস্থাপন করতে জুড়ি নেই শৌখিন রাঁধুনি সায়মা সুলতানার। আজ তিনি নিয়ে এসেছেন মিনি অন্থুন রেসিপি। এক কাপ চা কিংবা কফির সাথে দারুণ জমবে স্ন্যাক্স হিসাবে। ডায়েট করতে চাইলে ডিপ ফ্রাই না করে কেবল সিদ্ধ করেও খেতে পারেন সসের সাথে।

 

ধাপ-১ (উপকরণ ও প্রণালি)
পালং শাক ২ কাপ,
সিদ্ধ আলু হাফ কাপ
রশুন কুচি ৩ চা চামচ,
অল্প তেল
লবণ- স্বাদ মত
-প্রথমে প্যানে তেল দিয়ে রশুন কুচি দিন। হাল্কা লাল হলে পালং শাক ২ কাপ দিয়ে দিন। সাথে সিদ্ধ আলু হাফ কাপ। লবণ স্বাদ মত দিয়ে রান্না করুন। ভর্তার মত নরম করে রান্না করবেন।
ধাপ-২ (উপকরণ ও প্রণালি)
ময়দা ১ কাপ
গোলমরিচ গুঁড়ো হাফ চা চামচ
এরারুট ৪ চা চামচ,
১ টা ডিম
অল্প পানি
লবণ স্বাদ মত
-একটা বাটিতে নিয়ে খামির বানিয়ে নিন।
-ছোট রুটি বানিয়ে ভেতরে পালং শাক এর পুর দিন। অন্থুনের শেপ দিন কিংবা আপনার পছন্দমত যে কোন শেপ। সমুচা আকৃতিও করতে পারেন।
-গরম ডুবো তেলে ভেজে যে কোনো সস-এর সাথে পরিবেশন করুন। ভাজতে না চাইলে ফুটন্ত পানিতে ছেড়ে দিন। ভেসে উঠলে বুঝবেন সিদ্ধ হয়ে গেছে। ব্যাস, তৈরি স্টিমড অন্থুন।

No comments:

Post a Comment