ঠাণ্ডা-গরমে কাশির সমাধান
ঢাকা:
গ্রীষ্মকালে গরম তো পড়বেই আর তীব্র গরমে প্রচুর ঘাম হয়। তাছাড়া গরমে বারবার
গোসল ও দীর্ঘ সময় এসি রুমে থাকার ফলে ঠাণ্ডা লেগে কাশি হতে পারে। কাশি হলে
অনেক সময় গলাব্যথা ও গলা বসে যায়।
ঠাণ্ডা, কাশি, গলাব্যথা ও টনসিল এসবের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ও ওষুধ সেবনের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মূলত এসব সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগত সাবধানতা ও নিয়ম মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
অতি প্রাচীনকাল থেকেই ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে ঘরোয়া ভেষজ উপাদান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন তবে জেনে নিই এসব সমস্যা সমাধানে কী কী করণীয়।
মধু
মধু কাশির জন্য খুব ভালো ওষুধ। এটি গলার খুসখুসে ভাব কমায় ও দ্রুত আরাম দেয়। মধু গরম বলে এটি ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করে। কাশি সারাতে হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। আঙ্গুরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আঙ্গুরের রস ফুসফুস ও গলার ভেতর থেকে মিউকাস দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও চায়ে চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করতে পারেন।

আদা
অতি প্রাচীন কাল থেকেই ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথার ওষুধ হিসেবে আদার রস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা চা গলার কফ পরিষ্কার করে ও খুসখুসে ভাব কমায়। আদা কুচি করে পানিতে ১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। কাপে টি ব্যাগ রেখে আদাসহ সেদ্ধ পানি ঢালুন। হালকা লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক আরাম পেতে এর জুড়ি নেই। এছাড়াও আদা রস করে তাতে মধু মিশিয়ে ১০ সেকেন্ড গরম করে দিনে তিনবার খান। দ্রুত কাশি দূর হয়ে যাবে।
রসুন
রসুনে রয়েছে আলিসিন ও অন্যান্য অর্গানোসালফার উপাদান যা সংক্রমণকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিনাশ করে। গলা বসে গেলে রসুন থেঁতো করে গ্লাসে রাখুন। এরপর গ্লাসে গরম পানি ঢালুন। পাঁচ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। মিশ্রণটি পান করুন, আরামবোধ করবেন।

লেবু
লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা ঠাণ্ডার ভালো ওষুধ। লেবু চা খেতে পারেন। ঈষৎ গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে খেলেও ভালোবোধ করবেন। গলাব্যথা বা গলা বসে গেলে গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ দিয়ে গড়গড়া করুন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার করুন।
গোলমরিচ
কফযুক্ত কাশি নির্মূলে গরম পানিতে এক চা চামচ গোলমরিচ গুড়ার সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। গোলমরিচের দানা নিচে জমা হলে ধীরে ধীরে পান করুন।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস কাশি নিরাময় করে, এটি অনেকেরই অজানা। পেঁয়াজ রস করে তাতে মধু দিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন কাঁচা পেঁয়াজ।
লবঙ্গ
লবঙ্গ সেদ্ধ পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খান। এটি ভীষণ উপকারী। এছাড়াও লবঙ্গ ও আদা পানিতে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গড়গড়া করতে পারেন, গলাব্যথা কমে যাবে।

কাশি হলে যা খাবেন
কাশি দু’রকমের হয়, শুকনো ও কফযুক্ত কাশি। কাশির ধরনভেদে এর চিকিৎসাও আলাদা।
শুকনো কাশিতে আদা, পেঁয়াজ, পেঁয়াজপাতা, মিষ্টিকুমড়া ও দারচিনি ভালো ভূমিকা রাখে। তবে কাশির সঙ্গে যদি কফ থাকে তাহলে দুধ, মধু, টমেটো, আমন্ড ও হাঁসের মাংস খেলে উপকার পাবেন।
যা খাবেন না
কাশির দাওয়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে এটাও জেনে রাখা প্রয়োজন, ঠাণ্ডা লাগলে বা কাশি হলে কোন কোন খাবার বর্জন করতে হবে। কাশি হলে ঠাণ্ডা পানি, আইসক্রিম, কলা, ঝালজাতীয় খাবার, কার্বোনেটেড ড্রিংক্স, টক জাতীয় খাবার যেমন- আচার, ভিনেগার খাওয়া যাবে না। তবে লেবু খেলে ক্ষতি নেই। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
ঠাণ্ডা, কাশি, গলাব্যথা ও টনসিল এসবের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ও ওষুধ সেবনের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মূলত এসব সমস্যা সমাধানে ব্যক্তিগত সাবধানতা ও নিয়ম মেনে চলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
অতি প্রাচীনকাল থেকেই ঠাণ্ডা-কাশি নিরাময়ে ঘরোয়া ভেষজ উপাদান ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলুন তবে জেনে নিই এসব সমস্যা সমাধানে কী কী করণীয়।
মধু
মধু কাশির জন্য খুব ভালো ওষুধ। এটি গলার খুসখুসে ভাব কমায় ও দ্রুত আরাম দেয়। মধু গরম বলে এটি ঠাণ্ডা প্রতিরোধ করে। কাশি সারাতে হালকা গরম পানিতে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। আঙ্গুরের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আঙ্গুরের রস ফুসফুস ও গলার ভেতর থেকে মিউকাস দূর করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও চায়ে চিনির পরিবর্তে মধু ব্যবহার করতে পারেন।
আদা
অতি প্রাচীন কাল থেকেই ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি ও মাথাব্যথার ওষুধ হিসেবে আদার রস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা চা গলার কফ পরিষ্কার করে ও খুসখুসে ভাব কমায়। আদা কুচি করে পানিতে ১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। কাপে টি ব্যাগ রেখে আদাসহ সেদ্ধ পানি ঢালুন। হালকা লবণ মিশিয়ে পান করুন। তাৎক্ষণিক আরাম পেতে এর জুড়ি নেই। এছাড়াও আদা রস করে তাতে মধু মিশিয়ে ১০ সেকেন্ড গরম করে দিনে তিনবার খান। দ্রুত কাশি দূর হয়ে যাবে।
রসুন
রসুনে রয়েছে আলিসিন ও অন্যান্য অর্গানোসালফার উপাদান যা সংক্রমণকারী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিনাশ করে। গলা বসে গেলে রসুন থেঁতো করে গ্লাসে রাখুন। এরপর গ্লাসে গরম পানি ঢালুন। পাঁচ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। মিশ্রণটি পান করুন, আরামবোধ করবেন।
লেবু
লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা ঠাণ্ডার ভালো ওষুধ। লেবু চা খেতে পারেন। ঈষৎ গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস দিয়ে খেলেও ভালোবোধ করবেন। গলাব্যথা বা গলা বসে গেলে গরম পানিতে লেবুর রস ও সামান্য লবণ দিয়ে গড়গড়া করুন। এভাবে দিনে বেশ কয়েকবার করুন।
গোলমরিচ
কফযুক্ত কাশি নির্মূলে গরম পানিতে এক চা চামচ গোলমরিচ গুড়ার সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। গোলমরিচের দানা নিচে জমা হলে ধীরে ধীরে পান করুন।
পেঁয়াজের রস
পেঁয়াজের রস কাশি নিরাময় করে, এটি অনেকেরই অজানা। পেঁয়াজ রস করে তাতে মধু দিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও খাবারের সঙ্গে খেতে পারেন কাঁচা পেঁয়াজ।
লবঙ্গ
লবঙ্গ সেদ্ধ পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে খান। এটি ভীষণ উপকারী। এছাড়াও লবঙ্গ ও আদা পানিতে ১৫ মিনিট সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে গড়গড়া করতে পারেন, গলাব্যথা কমে যাবে।
কাশি হলে যা খাবেন
কাশি দু’রকমের হয়, শুকনো ও কফযুক্ত কাশি। কাশির ধরনভেদে এর চিকিৎসাও আলাদা।
শুকনো কাশিতে আদা, পেঁয়াজ, পেঁয়াজপাতা, মিষ্টিকুমড়া ও দারচিনি ভালো ভূমিকা রাখে। তবে কাশির সঙ্গে যদি কফ থাকে তাহলে দুধ, মধু, টমেটো, আমন্ড ও হাঁসের মাংস খেলে উপকার পাবেন।
যা খাবেন না
কাশির দাওয়াইয়ের সঙ্গে সঙ্গে এটাও জেনে রাখা প্রয়োজন, ঠাণ্ডা লাগলে বা কাশি হলে কোন কোন খাবার বর্জন করতে হবে। কাশি হলে ঠাণ্ডা পানি, আইসক্রিম, কলা, ঝালজাতীয় খাবার, কার্বোনেটেড ড্রিংক্স, টক জাতীয় খাবার যেমন- আচার, ভিনেগার খাওয়া যাবে না। তবে লেবু খেলে ক্ষতি নেই। ধূমপান থেকে বিরত থাকুন।
রক্তের কোলেস্টেরল কমাবেন কিভাবে?
হৃদরোগ আর কোলেস্টেরল এ দুটো শব্দের সাথে আমরা সবাই কমবেশী পরিচিত৷ বলা যায়, এ দুটো শব্দ একে অপরের পরিপূরক৷ একটি ছাড়া আরেকটি প্রায় অসম্পূর্ণ৷ হৃদরোগ বা হার্টের যে কোন রোগের অন্যতম প্রধান কারণ দেহে কোলেস্টেরোলের আধিক্য, অত্যধিক দুশ্চিনত্মা ও অতিমাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ৷ ডিমের কুসুম, যকৃত, মসত্মিষ্ক, চর্বিযুক্ত মাংস, দুগ্ধ, চিংড়ি প্রভৃতিতে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরোল রয়েছে৷ রক্তে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা ধীরে ধীরে হৃদরোগের সৃষ্টি করে৷ খাদ্যে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে এথেরোসক্লেরোসিস হয়৷ যার ফলে ধমনীর গাত্রে একরকম আঠরি সৃষ্টি হয় এবং ধমনীর পথ সরম্ন হতে থাকে৷ কোলেস্টেরোল রক্তকে ভারি করে দেয় এবং কৌশিক জালিকার গায়ে জমা হয়ে নালীপথ সরম্ন করে দেয়৷ ফলে সেই পথে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয় এবং পস্নাক তৈরী করে৷ এ কারণে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে হৃদযন্ত্রের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং হৃদপিণ্ডের কার্য বন্ধ হয়ে মানুষের মৃতু্য পর্যনত্ম হতে পারে৷
দেহে অতিরিক্ত কোলেস্টেরোলের সুবিধা-অসুবিধাঃ
দেহে কোলেস্টেরোল আধিক্যের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশী৷ কোলেস্টেরোল এক প্রকার চর্বি জাতীয় পদার্থ, যা শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা থাকে এবং দেহের অভ্যনত্মরীণ নানা ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে৷ কিন্তু যখনই এর মাত্রা বেড়ে যায় তখনই এটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে (১) হৃদরোগ এথোরোসক্লেরোসিস, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি দেখা হয়৷ ২) এটি শরীরকে ভারি করে, ওজন এবং স্থূলতা বৃদ্ধি করে৷ ফলে যে কোন কাজ করতে কষ্ট হয়, শরীর একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠে, বাহ্যিক সৌন্দর্য নষ্ট হয় এবং মনে অশানত্মি দেখা দেয়৷ ৩) দেহে কোলেস্টেরোলের আধিক্যের ফলে যেসব রোগ হয় তা অনেক সময় মৃতু্যর কারণ হয়ে দাঁড়ায়৷ এজন্য সকলেরই কোলেস্টেরোল গ্রহণের পরিমাণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে৷দেহের অতিরিক্ত কোলেস্টেরোল কমানোর কিছু সহজ উপায়:
দেহের কোলেস্টেরোলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই সহজ, শুধু প্রয়োজন সামান্য সচেতনতা৷ -তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্যগুলো খুবই মুখরোচক, কিন্তু এগুলোই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশী ৰতিকর৷ তেল জাতীয় বা ভাজা-পোড়া জিনিস কম খাবেন৷ চিংড়ি মাছ, ডিমের কুসুম প্রভৃতি উচ্চ কোলেস্টেরোলযুক্ত খাবার চেষ্টা করবেন পরিহার করতে৷ -দৈনিক খাদ্য তালিকায় একটু করে হলেও আঁশ জাতীয় খাদ্য রাখার চেষ্টা করম্নন৷ আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমন: ইসুবগুল, কচুর লতি, ডাঁটা, বিভিন্ন শাক প্রভৃতি৷ এগুলো রক্তের কোলেস্টেরোল ও Fat কমাতে সাহায্য করে৷ -দৈনিক ব্যায়াম করবেন, না পারলে অনত্মত এক ঘন্টা হাঁটার অভ্যাস করম্নন৷ ব্যায়াম করলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়৷ ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা কমে৷ ওজন কমাতে চেষ্টা করম্নন৷ -চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার যত পারবেন কম খাওয়ার চেষ্টা করম্নন৷ মিষ্টি জাতীয় খাবার দেহে শক্তি যোগায়৷ ফলে দেহে এর প্রয়োজন রয়েছে৷ কিন্তু অধিক পরিমাণে গ্রহণ করলে তা নানারূপ সমস্যার সৃষ্টি হয়৷ -বেশি বেশি ভিটামিন সি বা টক জাতীয় খাবার খাবেন৷ টক জাতীয় খাদ্যে কোলেস্টেরোল কমাতে জাদুর মত কাজ করে৷ -অনেকেরই ধারণা মাছের তেল কোলেস্টেরোল বাড়ায়৷ কিছু কিছু মাছের তেল রয়েছে যেগুলো রক্তের কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে৷ যাদের দেহে চর্বি বেশি, তাদের মাছের তেল খেতে দিলে ৬৮% কোলেস্টেরোল কমে৷ উদ্ভিদজাত তেল অনেক সময় কোলেস্টেরোল হ্রাস করে৷ মাছের তেল খেলে ৪২% কোলেস্টেরোল কমে যায়৷ -বিভিন্ন গাছনত্ম ওষুধ খেতে পারেন যেমন-অজর্ুনের ছাল, চিরতা, এগুলোও কোলেস্টেরোল কমাতে সাহায্য করে৷ -প্রচুর পরিমাণে ফলমূল ও শাক-সবজি খাবেন৷ দেহের কোলেস্টেরোল কমাতে এ দুটোর বিকল্প আর কিছু নেই৷ বেশি বেশি শসা খাবেন৷ শসা খুবই উপকারী দেহের ওজন হ্রাস করতে, কোলেস্টেরোল কমাতে৷ -এখন রক্তে কোলেস্টেরোল কমানোর নানারকম এন্টিবায়োটিক রয়েছে, যেগুলোর পাশর্্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে৷তবে নানারকম হারবাল ওষুধ সেৰেত্রে বেশ ফলদায়ক৷ হঠাত্ রক্তে কোলেস্টেরোলের মাত্রা বেড়ে গেলে চিনত্মিত হওয়ার কিছু নেই৷ অনেকে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়৷ এটা শরীরের জন্য আরও বেশি ৰতিকর৷ পরিমিত পরিমাণে দেহের চাহিদা মিটিয়ে খাদ্য গ্রহণ করে, সামান্য ব্যায়াম ও নিয়ম মেনে চলে ধীরে ধীরে খুব সহজেই এই কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমিয়ে আনা যায়৷ তবে চেষ্টা করবেন যতদূর সম্ভব কম কোলেস্টেরোলযুক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে৷
ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে রক্তচাপ কমানো সম্ভব!
সাধারণত রক্তচাপ বলতে সিস্টেমিক প্রবাহের ধমনিক প্রবাহকে বোঝায়। প্রতিটি হৃৎস্পন্দনের সময় একবার সর্বোচ্চ চাপ (সিস্টোলিক) এবং সর্বনিম্ন চাপ (ডায়াস্টলিক) হয়। মূলত হৃৎপিন্ডের সংকোচন প্রবণতাই রক্তচাপের প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে মানুষ বেশিরভাগ সময়ই ওষুধ ব্যবহার করে থাকে। তবে, লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করেই কিন্তু এটা কমানো সম্ভব। এমন কিছু প্রাকৃতিক উপায় রয়েছে, যা সব রক্তচাপকেই নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্ত চাপ কমানোর জন্য প্রাকৃতিক কিছু উপায় হল:
ব্যায়াম
ব্লাড প্রেসার কমানোর একটি কার্যকারী উপায় হচ্ছে ব্যায়াম। প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলেই এক সপ্তাহ পর ব্লাড প্রেসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। এজন্য হাঁটা, দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা এবং সাইকেল চালানোর মতো আরও অনেক কাজ করা যেতে পারে৷
কলা
পটাসিয়ামের প্রধান উৎসই হচ্ছে কলা। তাই রক্তচাপ কমাতে প্রতিদিন কলা খেতে হবে। এছাড়া অন্যান্য যেসব খাবারে পটাসিয়াম রয়েছে৷ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আলু, কমলা লেবুর জুস এবং দই প্রভৃতি খাবারও খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে৷
লবণ
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণের জন্য লবণ কম খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাদের দিনে ১৫০০ মিলিগ্রামেরও কম লবণ খাওয়া উচিত।
ধুমপান
ধুমপায়ীদের সবচেয়ে বেশি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি রয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ থেকে বাচঁতে চাইলে তা এড়িয়ে চলুন।
ওজন
অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম একটি কারণ। শুধু রক্তচাপ নয়, অতিরিক্ত ওজন হার্টের কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই এটি কমিয়ে ফেলাই ভালো।
অ্যালকোহল
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অ্যালকোহলের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে হবে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দিনে দু’পেগের বেশি অ্যালকোহল পান করলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে।
ধ্যান বা মেডিটেশন
প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ম করে প্রার্থনা, ধ্যান বা মেডিটেশন করলে ব্লাড প্রেসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া নিয়ম করে যোগ ব্যায়াম করলেও ব্লাড প্রেসার কমানো সম্ভব।
# চিরকালের জন্য কোমর ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায় !
কোমর ব্যথার সমস্যায় কমবেশি সকলেই ভুগে থাকেন। তবে মহিলারা বেশি কোমর ব্যথায় বেশি ভোগেন। প্রথম থেকে কোমরের ব্যথা নির্মূল করতে না পারলে রোগীকে ভবিষ্যৎ এ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে। একটি উপায়ে খুব সহজে এই ব্যথা উপশম করা সম্ভব। আসুন জেনে নিই কোমর ব্যথা দূর করার জাদুকরি উপায়টি।
কেন হয় কোমর ব্যথা
ওজন উচ্চতা অনুযায়ী বেশি হলে।
ভারী বস্তু তোলার কাজ করলে।
কোমরে চোট পেলে।
অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে।
পা পিছে কোথাও পড়ে গেলে।
নিয়মিত গাড়ি চালালে।
সাধারণত কুঁজো হয়ে হাঁটলে বা বসলে।
গর্ভধারণ সময়ে।
হঠাৎ কোনো কারণে হাড়, মাংসপেশি, স্নায়ু—এই তিনটি উপাদানের সামঞ্জস্য নষ্ট হলে।
এই কোমর ব্যথা খুব সহজে দূর করা সম্ভব। আদা যে কোনো ব্যথা কমাতে সক্ষম। আদার মাধ্যমেই দূর করে দিতে পারবেন এই সমস্যা। আসুন জেনে নিই এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী আদা পানি বানানোর প্রক্রিয়াটি।
যা যা লাগবে
আদা
পরিষ্কার পাতলা কাপড়
গরম পানি
কিভাবে তৈরি করবেন
প্রথমে আদা কুচি করে ফেলুন। এরপর আদা কুচিগুলো পাতলা কাপড়ে রাখুন।
কাপড়টির মুখ সুতা বা রশি দিয়ে বন্ধ করে দিন। একটা পুটলি বানিয়ে ফেলুন।
এবার চুলায় পানি গরম করতে দিন। এই পানির মধ্যে আদার পটলিটা চিপে রস পানিতে দিন।
রস ভাল করে চিপে ফেলার পর আদার পুটলিটা পানির মধ্যে দিয়ে দিন।
এবার একটি কাপড় গরম আদা পানিতে চুবিয়ে নিন। এবার কাপড়টি থেকে ভাল করে পানি চিপড়িয়ে ফেলুন।
এই আদা পানিতে চুবানো কাপড়টি ব্যথার জায়গায় রাখুন। লক্ষ্য রাখবেন কাপড়টা যেন খুব বেশি মোটা না হয়।
সারা রাত কাপড়টি ব্যথার জায়গায় রেখে দিন। সারা রাত সম্ভব না হলে কয়েক ঘণ্টা এটি ব্যথার জায়গায় রেখে দিন।
দেখবেন কোমর ব্যথা গায়েব হয়ে গেছে। এটি আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি আরাম দেবে।
# হার্ট অ্যাটাক হলে কী করবেন? জেনে নিন প্রাথমিক চিকিৎসা
প্রিয়জনের, কাছের মানুষের হঠাত্ হার্ট অ্যাটাক হলে অনেকেরই মাথা কাজ করে না। অথচ এই সময়ই মাথা ঠান্ডা রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। ঠান্ডা মাথায় রোগীকে যতটা ফার্স্ট এড দিতে পারবেন ঝুঁকি তত কমবে। এই সময় ঘাবড়ে গিয়ে দেরি করে ফেললে কিন্তু বিপদ আরও বাড়বে। জেনে নিন কী করবেন জরুরি সময়ে।
কী ভাবে বুঝবেন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে কিনা-
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ-
১। বুকে ক্রমাগত ব্যথা, ছড়িয়ে পড়তে পারে চোয়াল, কাঁধ, দাঁত, গলা, হাতে।
২। হঠাত্ পালস রেট খুব বেড়ে যাওয়া বা একেবারে কমে যাওয়া।
৩। অতিরিক্ত ঘাম
৪। বুকে মাঝখানে অস্বস্তিকর চাপ অনুভব করা, ভারী ভারী ভাব।
৫। শ্বাস ছোট হয়ে আসা।
৬। মাথা ঘোরা, জ্ঞান হারানো।
৭। বমি বমি ভাব।
এই অবস্থায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। অবিলম্বে অ্যাম্বুলেন্স কল করুন বা ডাক্তারকে ফোন করুন। বাড়িতে নিজের গাড়ি থাকলে নিজেরাও নিয়ে যেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন রোগীর সঙ্গে সারাক্ষণ কেউ থাকে।
অ্যাম্বুলেন্স বা ডাক্তার আসার আগে কী ভাবে ফার্স্ট এড দেবেন-
১। প্রথমেই রোগীকে রিল্যাক্সড অবস্থায় নিয়ে আসুন। দেওয়ালে হেলান দিয়ে মাটিতে বসান। ঘাড়, মাথা কাঁধ হেলান দিয়ে হাঁটু মুড়ে রোগীকে বসালে রক্তচাপ কমবে।
২। রোগীর যদি অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি না থাকে তবে অ্যাসপিরিন দিন। এই সময় ৩০০ গ্রাম অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খেতে পারলে ধাক্কা অনেকটাই সামলানো যাবে।
৩। এই সময় রোগী শক পেতে পারেন। জীবনের ঝুঁকি রয়েছে বুঝতে পারলে শক পাওয়া খুব স্বাভাবিক।
৪। ক্রমাগত শ্বাস, পালস রেট ও রোগী কেমন সাড়া দিচ্ছেন তা চেক করতে থাকুন।
৫। রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যায় তবে সিপিআর-এর সাহায্য নিন।
# নিশ্বাসে দুর্গন্ধ? এগুলো মেনে চলুন, মুখে গন্ধ হবে না
খে দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর নিশ্বাস যেমন লজ্জায় ফেলে, তেমনই ক্ষতি করে স্বাস্থ্যেরও। বেশির ভাগ সময়ই বড়সড় সমস্যা নয়, আমাদেরই ছোটখাট বদ অভ্যাস, অনিয়মের কারণে নিশ্বাসে দুর্গন্ধের সমস্যা দেখা দেয়। এগুলো মেনে চলুন। মুখে গন্ধ হবে না।
ঠিক কী কী কারণে মুখে গন্ধ হতে পারে?
১। দাঁতে ক্যাভিটি
২। দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকা
৩। অগোছালো দাঁতের গঠন
৪। অপরিষ্কার দাঁত
৫। অপরিষ্কার জিভ
এ ছাড়াও অভ্যাসগত ও শারীরিক কিছু কারণের জন্যও মুখে গন্ধ হতে পারে। যেমন-
১। অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকা
২। খাবার ঠিক ভাবে না চিবনো
৩। মাড়ির সমস্যা
৪। ডিহাইড্রেশন
৫। ভিটামিনের অভাব
৬। ডায়াবেটিস
৭। লিভারের অসুখ
৮। হার্নিয়া
৯। ক্যানসার
১০। কোনও বিশেষ ওষুধের কারণেও মুখে গন্ধ হতে পারে
মুখে গন্ধ যেমন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে, তেমনই এর কারণে অপ্রস্তুতও হতে হয়। কিছু অভ্যাস যদি রোজ মেনে চলেন।
১। ব্রাশ- দিনে দু’বার মিন্ট জাতীয় ভাল টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করুন।
২। মাউথওয়াশ- খাওয়ার পর অ্যান্টিসেপটিক, রিফ্রেশিং মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
৩। ফ্লস- অনেকেই মাড়িতে আটকে থাকা খাবার বের করতে অবহেলা করেন। এতে শুধু মুখে গন্ধই ছড়ায় না, অনেক বড় অসুখও হতে পারে। অনেকে আবার পিন, কাঠি দিয়ে অস্বাস্থ্যকর ভাবে দাঁত খোঁচান। এতে মাড়ির ক্ষত হতে পারে। ভাল ফ্লস দিয়ে বা পাতলা নিম কাঠি দিয়ে দাঁতের গোড়ায় আটকে থাকা খুচরো খাবার বের করুন।
৪। জিভ- মুখে গন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ কিন্তু অপরিষ্কার জিভ। দাঁত মাজার সময় অনেকেই জিভ পরিষ্কার করেন না। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখনই ব্রাশ করবেন ভাল করে জিভ পরিষ্কার করুন। প্রতি বার খাওয়ার পরও জিভ পরিষ্কার করে নিন।
৫। জল- ডিহাইড্রেশনের কারণে মুখে গন্ধ হয়। তাই প্রতি দিন নিয়মিত ১০ গ্লাস জল অবশ্যই খান।
৬। বারে বারে খান- অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকলে মুখে গন্ধ হয়। তাই দুই থেকে তিন ঘণ্টা অন্তর লো ক্যালরি খাবার খান। এই ডায়েট মেনে চললে মুখে গন্ধ হবে না।
৭। পেঁয়াজ, রসুন- কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন থেকে মুখে দুর্গন্ধ হয়। কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল হলেও যদি মুখে গন্ধ হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে এগুলো এড়িয়ে চলুন।
৮। অ্যালকোহল- রাতে মদ্যপান করলে সকালে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। তাই অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে তা অবিলম্বে ছাড়ুন।
৯। ডেন্টিস্ট- যদি মুখে গন্ধ হওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলে অবশ্যই প্রতি ছ’মাস অন্তর ডেন্টিস্টের কাছে যান।
১০। শরীরিক পরীক্ষা- হার্নিয়া, ডায়াবেটিস বা লিভারের সমস্যা হয়েছে কিনা পরীক্ষা করিয়ে নিন।
ঘৃতকুমারীর যত গুন
বাড়িতে
টবে ঘৃতকুমারী লাগিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও পথ্যের
জোগান দিতে পারেন আপনিও।ঘৃতকুমারী শুনে অনেকে ভুরু কোঁচকালেও কিন্তু একে
সবাই অ্যালোভেরা নামে ভালোই চেনেন। ঔষধি এই ভেষজের নানা গুণের কথা পাঁচ
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জানা। শরীরে নানা প্রয়োজনীয়
পুষ্টির জোগান দিতে আর অসুখ-বিসুখ সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী
অতুলনীয়। এই উদ্ভিদ খাদ্য-পানীয় হিসেবে
যেমন কার্যকর তেমনি তা বাহ্যিকভাবেও ব্যবহারযোগ্য। ঘৃতকুমারীর রস পান করে,
সালাদ হিসেবে খেয়ে এবং ত্বক ও চুলে ব্যবহার করে আপনিও দারুণ উপকৃত হতে
পারেন। এই প্রতিবেদনে ঘৃতকুমারীর ৯ টি অনন্য উপকারিতার কথা তুলে ধরা হলো।
ভিটামিন ও খনিজ
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজের এক সমৃদ্ধ উৎস।
ভিটামিন-এ,সি,ই, ফলিক অ্যাসিড, কোলিন, বি-১, বি-২, বি-৩ (নিয়াসিন) ও
ভিটামিন বি-৬ এর দারুণ উৎস এটা। অল্পসংখ্যক উদ্ভিদের মধ্যে ঘৃতকুমারী একটি
যাতে ভিটামিন বি-১২ আছে। প্রায় ২০ ধরনের খনিজ আছে ঘৃতকুমারীতে। এর মধ্যে
আছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়াম, সোডিয়াম,
আয়রন, পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাংগানিজ।
চাপ ও রোগ প্রতিরোধ
ঘৃতকুমারী দারুণ অ্যাডাপ্টোজেন। শরীরের প্রাকৃতিক ক্ষমতাকে বাড়িয়ে
বাহ্যিক নানা চাপ ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালনকারী উপাদানকে
অ্যাডাপ্টোজেন বলা হয়ে থাকে। ঘৃতকুমারী দেহের অভ্যন্তরীণ পদ্ধতির সঙ্গে
মিশে গিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করে তোলে এবং দেহের ভারসাম্য
রক্ষা করে। শারীরিক ও মানসিক চাপ মোকাবিলার পাশাপাশি পরিবেশগত দূষণের
ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেহকে সুরক্ষা দিতে পারে ঘৃতকুমারী।
হজমে সহায়ক
হজমের সমস্যা থেকেই শরীরে অনেক রোগ বাসা বাঁধে। তাই সুস্বাস্থ্যের অন্যতম
ভিত্তি হচ্ছে খাবার-দাবার পরিপাক বা হজমের প্রক্রিয়াটি ঠিকঠাক রাখা।
পরিপাক যন্ত্রকে পরিষ্কার করে হজম শক্তি বাড়াতে ঘৃতকুমারী অত্যন্ত
কার্যকর। ঘৃতকুমারীর রস পান করার দারুণ ব্যাপার হলো এটা কোষ্ঠকাঠিন্য ও
ডায়ারিয়া দুই ক্ষেত্রেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। পরিপাক ও রেচন
যন্ত্রকে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখে বলে ঘৃতকুমারীর রস পান করলে পেটে
ক্রিমি হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না, কিংবা ক্রিমি থাকলেও সেটা দূর হয়।
দূষণ মুক্তি
ঘৃতকুমারীর রস খুবই আঠালো। এমন উদ্ভিদের আঠালো রস পানের একটা দারুণ
ব্যাপার হলো খাদ্যনালীর ভেতর দিয়ে দেহের ভেতরে প্রবেশের সময় থেকেই পুরো
পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার করতে করতে যায়। এই রস দেহের অভ্যন্তরীণ নানা
টক্সিন বা দূষিত উপাদান শুষে নিয়ে মলাশয় দিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে দেহকে ভেতর
থেকে দূষণ মুক্ত করতে ঘৃতকুমারীর তুলনা নেই।
অ্যালক্যালাইন সমৃদ্ধ
সুস্বাস্থ্যের জন্য খাবার-দাবারে অ্যালক্যালাইন সমৃদ্ধ খাদ্য ও অ্যাসিড
সমৃদ্ধ খাদ্যের ভারসাম্য বজায় রাখার কথা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ৮০/২০ বা ৮০
ভাগ অ্যালক্যালাইন সমৃদ্ধ খাবার ও ২০ ভাগ অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার
পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিদেরা। ঘৃতকুমারী এমন খাবার যা অ্যালক্যালাইন
তৈরি করে। কিন্তু আজকাল নগরজীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস এমন পর্যায়ে চলে গেছে
যে প্রায়শই অ্যাসিডের সমস্যায় ভুগতে হয়। ফলে অতিরিক্ত অ্যাসিডের ভোগান্তি
থেকে বাঁচতে মাঝে মধ্যে ঘৃতকুমারী খান।
ঘৃতকুমারী খাদ্য-পানীয় হিসেবে যেমন কার্যকর তেমনি তা বাহ্যিকভাবেও ব্যবহারযোগ্য।
ত্বক ও চুলের মহৌষধ
আধুনিক প্রসাধনী সামগ্রীর অন্যতম কাঁচামাল এই অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী।
ত্বক ও চুলের জন্য এটা দারুণ উপকারী। এটা ত্বকের নানা ক্ষত সারিয়ে তুলতে
কার্যকরী। রোদে পোড়া, ত্বকে ফুসকুড়ি পড়া ও পোকার কামড়ের মতো বাহ্যিক
সমস্যাগুলো সারিয়ে তুলতে পারে সহায়ক এটা। এমন বাহ্যিক ক্ষতে ঘৃতকুমারীর রস
মাখলেও ব্যথার উপশম হবে, কেননা বেদনানাশক হিসেবেও এটা অতুলনীয়। চুল
পরিষ্কার করতে, চুলে পুষ্টি জোগাতে এবং চুল ঝলমলে উজ্জ্বল রাখতে
ঘৃতকুমারীর রসের জুড়ি নেই।
অ্যামাইনো ও ফ্যাটি অ্যাসিড
মানব
দেহের নানা প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো
অ্যাসিড। এমন ২২টি অ্যামাইনো অ্যাসিডকে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়, এর মধ্যে ৮টিকে অত্যাবশ্যক। ঘৃতকুমারীতে শরীরের জন্য
অত্যাবশ্যক এই ৮টি অ্যামাইনো অ্যাসিডই আছে। আর এতে মোট অ্যামাইনো
অ্যাসিড আছে ১৮ থেকে ২০ ধরনের। এ ছাড়া নানা ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডেরও দারুণ
উৎস এই ঘৃতকুমারী।
প্রদাহ ও ব্যথা কমায়
শরীরে নানা ধরনের প্রদাহ
দূর করতে খুবই কার্যকর ঘৃতকুমারী। এতে বি-সিসটারোল সহ এমন ১২টি উপাদান আছে
যা প্রদাহ তৈরি হওয়া ঠেকায় এবং প্রদাহ হয়ে গেলে তা কমিয়ে আনে। ঘৃতকুমারীর
এই সব গুণ হাত-পায়ের জোড়ার জড়তা দূর করে এবং গিঁটের ব্যথা কমাতেও সহায়তা
করে।
ওজন কমাতে সহায়ক
খাবার-দাবার হজমে সহায়তা এবং শরীরকে
দূষণমুক্ত করার মধ্য দিয়ে ঘৃতকুমারী আপনার স্বাস্থ্যের যে প্রাথমিক উন্নতি
ঘটায় তার অবধারিত ফল হলো ওজন ঠিকঠাক থাকা। এমনিতে ওজন কমানো নিয়ে অনেক
সমস্যায় থাকলেও নিয়মিত ঘৃতকুমারীর রস পান করলে আপনার ওজনের সমস্যা অনেক কমে
আসবে। এ ছাড়া শরীর দূষণমুক্ত রাখতে পারার কারণে আপনার কর্মশক্তি বেড়ে
যাবে, এ কারণেও আপনার ওজন কমবে।
# যে কাজটি করলে আর কখনোই আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকবে না!
অথচ এই সমস্যা দূর করার জন্য ওষুধ না খেয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিচের যেকোন একটি নিয়ম মানলেই চলবে।
১। আধা ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা আদা নিন। তারপর অল্প একটু লবন মাখিয়ে খেয়ে ফেলুন। আদা খাওয়ার কিছুক্ষণ পর এক কাপ কুসুম গরম পানি খান। গভীর রাতে আর গ্যস্ট্রিকের সমস্যা হবে না। অথবা,
২। এক গ্লাস পানি একটি হাড়িতে নিয়ে চুলায় বসান। এর আগে এক ইঞ্চি পরিমাণ কাঁচা হলুদ পানিতে দিয়ে দিন। পানি অন্তত পাঁচ মিনিট ফুটতে দিন। তারপর নামিয়ে আনুন। পানি ঠাণ্ডা হলে হলুদসহ খেয়ে ফেলুন। গ্যাস্ট্রিক দৌঁড়ে পালাবে। অথবা,
৩। ওপরের সমস্ত পদ্ধতি ঝামেলার মনে হলে শুধুমাত্র এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। কখনোই রাতে পেট বা বুক ব্যথা করবে না।

No comments:
Post a Comment